To Parents, For Children

বাবুর ঢেঁকুরের অপেক্ষা

রাত দুটো। ফিড শেষ করে বাবু আপনার কাঁধে ঘুমিয়ে পড়েছে। ছোট্ট মুখটি নিশ্চিন্ত, দুই হাত শরীরের পাশে নরম হয়ে ঝুলছে। আপনারও চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। তবু ঘুমানোর উপায় নেই। একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো বাকি। ঢেঁকুর ওঠেনি। আপনি পিঠে আলতো চাপ দিচ্ছেন। পাঁচ মিনিট গেল। তারপর দশ মিনিট। মাঝখানে ঘুমন্ত বাবুকে একটু সোজা করলেন, কাঁধ বদলালেন, আবার চাপ দিলেন। পরিবারের কারও কথা মনে পড়ছে, “ঢেঁকুর না তুলিয়ে শোয়াবে না, পেটে বাতাস আটকে যাবে।” ফলে ঘুমিয়ে থাকা বাবুকে নিয়ে আপনি এমন একটি ঢেঁকুরের অপেক্ষা করছেন, যে হয়তো আজ আসার পরিকল্পনাই করেনি। ফিডের পর ঢেঁকুর তুলিয়ে দেওয়া বহু পরিবারের পরিচিত অভ্যাস। এর পেছনের ভাবনাটিও যুক্তিসঙ্গত। বুকের দুধ বা বোতল থেকে খাওয়ার সময় বাবু কিছুটা বাতাস গিলে ফেলতে পারে। সেই বাতাস পেটে জমলে অস্বস্তি

Continue

বাবুর মুখে নিয়ে শেখা

বসার ঘরের মেঝেতে বাবুকে নামিয়েছেন। সামনে রঙিন খেলনা, নরম বই, টিথার সব সাজানো। বাবু অনেক ভেবেচিন্তে একটি খেলনা তুলল। আপনি মনে মনে আশা করছেন, এবার বুঝি খেলনাটি নেড়ে দেখবে। বাবু সেটি সোজা মুখে ঢুকিয়ে দিল। আপনার হাতও সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে গেল। “না না, মুখে না!” তারপর খেলনাটি মুছলেন। আবার দিলেন। দশ সেকেন্ড পর একই ঘটনা। বিকেলের খেলাধুলা তখন বাবুর আবিষ্কার আর আপনার জীবাণুনাশক অভিযানের মাঝখানে আটকে গেছে। বাবু কেন সবকিছু মুখে দেয়, এই প্রশ্নের উত্তর বেশ মজার। বড়রা কোনো নতুন জিনিস হাতে নিয়ে দেখি, উল্টেপাল্টে দেখি, আঙুল দিয়ে চাপ দিই। কিন্তু কয়েক মাস বয়সী বাবুর আঙুল তখনো এত নিখুঁতভাবে কাজ করতে শেখেনি। ছোট্ট কোনো অংশ আলাদা করে ছুঁয়ে দেখা, আঙুলের ডগা দিয়ে খুঁটিয়ে বোঝা বা ইচ্ছেমতো ঘোরানো তার জন্য কঠিন।

Continue