ন্যাওটা বাবু

প্যাপিয়ারবুট

সকাল থেকে বিভার মায়ের দিনটা চলছিল একেবারে ঘড়ির কাঁটার মতো—ভাত চড়ানো, কাপড় ভাঁজ করা, ফোনের মেসেজের উত্তর দেওয়া, আর মাঝেমধ্যে বিভার হাতে ভুল জিনিসটা না পড়েছে কিনা দেখে নেওয়া।

এর মধ্যেই বিভা বেশ শান্ত হয়ে বসেছিল। লাল স্ট্যাকিং কাপগুলো একটার ওপর একটা বসাচ্ছে, আবার নিজেই ফেলে দিয়ে খিলখিল করে হাসছে। মা দূর থেকে তাকিয়ে ভাবলেন, আহা, আজ তো মেয়েটা বেশ নিজের মতো খেলছে!

ঠিক তখনই তাঁর বাথরুমে যাওয়ার দরকার হলো।

মা বেশি আয়োজন করলেন না। শুধু বললেন, “আমি একটু যাচ্ছি, আবার আসছি।” তারপর দরজাটা আস্তে করে লাগালেন।

কিন্তু বিভার কাছে “আবার আসছি” কথাটা তখনো খুব বিশ্বাসযোগ্য কিছু নয়। দরজা বন্ধ হতেই তার মুখ গম্ভীর। তারপর ছোট্ট পায়ের শব্দ। তারপর দরজার ওপাশে এক করুণ ডাক—

“আম্মু! আম্মু! আম্মু!”

মা ভেতর থেকে বললেন, “আমি আছি, আসছি।” কিন্তু বিভার কান্না ততক্ষণে ফুলে উঠেছে। যেন দরজার ওপাশে বাথরুম নয়, গভীর বন।

মা দরজা খুলে নিচু হয়ে বসলেন। বিভা গলা জড়িয়ে ধরল, বেশ রাগ আর স্বস্তি মেশানো মুখে।

মা বুঝলেন, বিভা ইচ্ছে করে তাঁকে আটকে রাখতে চায় না। সে শুধু এখনো শিখছে—মা চোখের আড়াল হলেও হারিয়ে যায় না। বারবার ছোট ছোট বিদায় আর ফিরে আসাই একদিন তাকে এই ভরসাটা শেখাবে।

Tags

What do you think?